Skip to main content

জাতীয় সংগীতের ইতিহাস ও পরিবর্তন

জাতীয় সংগীতের ইতিবৃত্ত ও পরিবর্তন পোস্টে কয়েকটি ধাপ থাকবে। আশাকরি সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ে মন্তব্য করবেন- #জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত কিছু কথা -- এটি ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম প্রকাশ পায় এবং এটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায়নি। -- বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৩ বছর আর জাতীয় সংগীত প্রকাশ পেয়েছে ১১৯ বছর আগে। সুতরাং এটি আধুনিক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি নয়। -- এতে বাংলাদেশের এত এত সংগ্রাম, ত্যাগ, রক্ত ও প্রাণ বিসর্জন কোনটার প্রতিফলন নেই। -- এই সংগীত জ্বালাময়ী ও তেজদীপ্ত নয়। -- এতে স্বাধীনতা ও তার ইতিহাস প্রতিফলিত হয় না। -- এটি রচনার সময় বাংলাদেশ নামক কোন দেশের অস্তিত্ব ছিল না। সুতরাং এটি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনটার উপর ভিত্তি করে রচিত হয়নি। -- এতে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন আসেনি, বরং এতে অন্য ধর্মের ভাব প্রকাশ পায়। -- এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাদেশের নাগরিক নন বা বাংলাদেশ অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেননি। -- তিনি সবসময় বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশ অঞ্চলের মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধাচরণ করতেন। -- তিনি বাংলাদেশের তথা বাংলাদেশ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার বিরুদ্ধে ছিলেন। -- তিনি বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। -- এর রচয়িতা একজন সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের সন্তান। উপর্যুক্ত সব কথা নানা জায়গায় ইতিপূর্বে উত্থাপিত হয়েছে। #পৃথিবীর কোন দেশে কি জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়নি বিশ্বের অনেক দেশেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তন হয়েছিল নানা প্রেক্ষাপটে। লিঙ্গবৈষম্য, ভাবমূর্তি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে অনেক দেশ তাদের জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন এনেছে। এবার একনজরে দেখে নেয়া যাক ওইসব দেশগুলো যারা তাদের জাতীয় সংগীতে পরিবর্তন এনেছে। এদের কয়েকটি হল: অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, কানাডা, নেপাল, আফগানিস্তান, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া #জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সম্পূর্ণ আমার সোনার বাংলা গানটি এখানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই গানের প্রথম দশ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥ ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥ কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো— কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো, মরি হায়, হায় রে— মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥ জাতীয় সংগীতের বাকি অংশটুকু তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে, তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি। তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে, মরি হায়, হায় রে— তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥ ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে, সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে, তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে, মরি হায়, হায় রে— ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥ ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে— দে গো তোর পায়ের ধুলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে। ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে, মরি হায়, হায় রে— আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব'লে গলার ফাঁসি #মন্তব্য: -- সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে, জাতির আধুনিকায়নে, রাজনৈতিক ও জনগণের চাহিদা মতো পরিবর্তন হতে পারলে, জাতীয় সংগীত কেন নয়? -- জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করতে চাইলে তাকে কেন ট্যাগিং করা হবে? -- দেশের বিভিন্ন কাঠামোতে পরিবর্তনের মতো এতেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। -- আমার চিন্তা ধারা মধ্যপন্থী। আমার এই সংগীত নিয়ে কোন আপত্তি নেই। তবে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের মতে প্রতিফলনে নতুন জাতীয় সংগীত রচনা করাই যায়। © মোঃ মামুন চৌধুরী

Comments